নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিভাজন দূর করে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি'র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম (১), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম (২) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলেও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা, নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং কার্যকর কর্মসূচির অভাবে সংগঠনগুলো মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির অভাব, তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ কর্মীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে কিছু সুবিধাবাদী ও অতীতের স্বৈরাচারপন্থী ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত সময়ে বিএনপির আদর্শে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া বহু ত্যাগী কর্মী রাজনৈতিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। এতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তারা বলেন, বৌদ্ধবিহার, ভিক্ষুসহ সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত ভূমিকা দেখা যায়নি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের উদ্যোগ কোনো নতুন সংগঠন গঠন বা বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য নয়। বরং তিনটি সংগঠনের আদর্শে বিশ্বাসী ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সমন্বয়ে একটি সমন্বয়ক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী একক প্ল্যাটফর্ম গঠন অথবা বিদ্যমান তিন সংগঠনের মধ্যে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সংগঠনের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির আদর্শে বৌদ্ধ সমাজে নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র নেতৃবৃন্দ,উদয় কুসুম বড়ুয়া, ঝন্টু কুমার বড়ুয়া, ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া, পার্থ প্রীতম বড়ুয়া অপুসহ সংশ্লিষ্ট সকল নেতার প্রতি আগামী ২৬ জুনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ ও বিভেদ ভুলে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ড ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তৃণমূলের কর্মীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অধিকার, ত্যাগ ও অবদানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।