বয়স ৩৯? নাকি কেবলই একটা সংখ্যা? লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই সত্যি। যেখানে এই বয়সে অধিকাংশ ফুটবলার বুটজোড়া তুলে রেখে অবসরের দিন গোনেন, সেখানে মেসি বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে করছেন হ্যাটট্রিক! বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই
প্রশ্ন-৩৯ বছর বয়সেও কীভাবে এতটা ফিট এবং ক্ষুরধার এলএমটেন (LM10)?
শুধু জিম আর কঠোর শরীরচর্চায় কি এই অবিশ্বাস্য ফর্ম সম্ভব, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গোপন রহস্য? চলুন জেনে নেওয়া যাক মেসির এই ‘চিরসবুজ’ ফর্মের পেছনের আসল রাজকাহন।
২০১৪ সালের পর মেসির ক্যারিয়ারে বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট আসে। ইতালিয়ান পুষ্টিবিদ গিউলিয়ানো পোসারের পরামর্শে মেসি তাঁর খাদ্যতালিকা থেকে চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মাংস খাওয়া একপ্রকার বাদই দিয়ে দেন।
মেসির বর্তমান ডায়েটের মূল ভিত্তি ৫টি জিনিস:
এই ডায়েট তাঁর শরীরের পেশির ক্লান্তি দূর করতে এবং দ্রুত রিকভারি করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
মেসিকে প্রায়ই ম্যাচের আগে বা পরে একটি বিশেষ পাত্রে স্ট্র দিয়ে কিছু একটা খেতে দেখা যায়। এটি হলো দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ‘মেট’ (Mate) চা।
মেসি এখন আর আগের মতো অনর্থক মাঠজুড়ে দৌড়ান না। আধুনিক ফুটবল বিশ্লেষকরা একে বলেন "Walking with a purpose" (উদ্দেশ্যমূলক হাঁটা)।
মেসি ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিট কেবল হেঁটে হেঁটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনটা পরখ করেন। তিনি শক্তি বাঁচিয়ে রাখেন সঠিক মুহূর্তের জন্য। যখনই সুযোগ আসে, তখনই চিতার গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৩৯ বছর বয়সে শক্তি ধরে রাখার এটি একটি অন্যতম সেরা বৈজ্ঞানিক কৌশল।
ম্যাচ বা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিংয়ের পর মেসি নিয়মিত ক্রায়োথেরাপি (মাইনাস তাপমাত্রায় শরীরকে ঠাণ্ডা করা) এবং আইস বাথ নেন। এটি তাঁর রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশির ভেতরের মাইক্রো-ইনজুরিগুলো দ্রুত সারিয়ে তোলে। ৩৯ বছর বয়সে এসে ইনজুরি মুক্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা মেসি এই থেরাপির মাধ্যমে জয় করেছেন।
মেসি নিজেই বহু সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মাঠের বাইরে তাঁর শান্ত ও সুখী পারিবারিক জীবন তাঁকে চাপমুক্ত রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপ জেতার পর তাঁর মাথার ওপর থেকে সব চাপ নেমে গেছে। এখন তিনি খেলছেন স্রেফ আনন্দের জন্য। আর একজন চাপমুক্ত, হাসিখুশি মেসি যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা প্রতিপক্ষ দলগুলো ভালো করেই জানে!
৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি হলো বছরের পর বছর ধরে কঠোর শৃঙ্খলা, সঠিক পুষ্টি, এবং ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার এক নিখুঁত মিশ্রণ। মেসি প্রমাণ করে দিলেন, বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, যদি মনের ভেতর জেদ আর শরীরের ভেতর সঠিক জ্বালানি থাকে।
আপনার কী মনে হয়? মেসি কি ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপের ট্রফিটাও ঘরে তুলতে পারবেন?