

সময় ডেস্ক |
কোমলমতি শিশুদের প্রতি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অপরিসীম ভালোবাসা ও স্নেহ সর্বকালের মানবজাতির জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অসভ্য ও জাহেলি যুগে যখন কন্যাসন্তানকে জীবন্ত দাফন করা হতো এবং শিশুদের প্রতি অবহেলা করা হতো, তখন বিশ্বনবী (সা.) শিশুদের অধিকার, মর্যাদা ও স্নেহের এক নতুন মানবিক দিগন্ত উন্মোচন করেন।
আগে সালাম প্রদান ও কুশল বিনিময়
মহানবী (সা.) শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং পথচলার সময় তাদের দেখলে নিজেই আগে বাড়িয়ে সালাম দিতেন। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের পরম স্নেহে সালাম দিতেন এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দো’আ করতেন।
নামাজে শিশুদের প্রতি বিশেষ বিবেচনা
নামাজের মতো পরম একাগ্রতার এবাদতের সময়ও মহানবী (সা.) শিশুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। জামাতে নামাজ আদায়কালে কোনো শিশুর কান্নার শব্দ শুনলে তিনি কেরাত সংক্ষিপ্ত করতেন, যাতে শিশু ও তার মায়ের কষ্ট না হয়। কখনো সেজদারত অবস্থায় তাঁর দৌহিত্র হযরত হাসান (রা.) ও হযরত হুসাইন (রা.) তাঁর পিঠে চেপে বসলে, তিনি শিশুদের আনন্দ নষ্ট না করে দীর্ঘ সময় সেজদায় থাকতেন।
স্নেহ ও ভালোবাসার শিক্ষা
একবার এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-কে তাঁর নাতিকে চুম্বন করতে দেখে আশ্চর্য হয়ে বলেন, "আমার ১০টি সন্তান রয়েছে, কিন্তু আমি তাদের কাউকেই কখনো চুমু খাইনি।" রাসুল (সা.) উত্তরে বললেন, "যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।" (সহিহ বুখারি)।
পুত্র ও কন্যাসন্তানের বৈষম্য দূরীকরণ
জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মহানবী (সা.) সমাজে কন্যাসন্তানদের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, সন্তান লালন-পালনে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা যাবে না এবং কন্যাসন্তানকে ভালোবাসার বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দেন।
বর্তমান সমাজে শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং কোমলমতি শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশে মহানবী (সা.)-এর এই সুন্নাহ ও শিক্ষা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কঠোরতা বা শাসন নয়, বরং পরম ভালোবাসা, সম্মান ও স্নেহের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।