

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৬ ঘণ্টার এক ঝটিকা ও অত্যন্ত গোপন সফর সম্পন্ন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধপরবর্তী গাজার ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে এতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চরম গোপনীয়তা রক্ষা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৬ ঘণ্টার এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ সফরে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে নেতানিয়াহুর মুখোমুখি গোপন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনার পটভূমিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে যেসব বিষয়ে জোর আলোচনা হয়েছে:
গাজা সংকট ও যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা: বৈঠকে চলমান গাজা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা, গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করা এবং যুদ্ধপরবর্তী গাজা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান ফ্যাক্টর: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক তৎপরতা ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক: ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যকার বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কৌশলগত বিনিয়োগ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার কৌশলগত যোগাযোগ যে ব্যাক-চ্যানেলে সচল রয়েছে, নেতানিয়াহুর এই গোপন সফর তারই স্পষ্ট প্রমাণ।