

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কথাঃ
মৌলভীবাজার: সরকারি চাকরির সমস্ত ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও শেষ মুহূর্তে স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক চিলতে মাথার ওপরের ছাদ কিংবা নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা। পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাবার কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় চাকরি থেকে বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক তরুণের। তবে শেষপর্যন্ত জয় হয়েছে মানবিকতার; তরুণের স্বপ্নের আড়ালে দাঁড়াতে নিঃস্বার্থভাবে নিজের জমি লিখে দিয়েছেন এক উদার প্রতিবেশী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণের পরিবার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। নিজের নামে বা বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা নিজস্ব ভিটেমাটি না থাকায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানার জটিলতায় পড়েন তিনি। এতে বহু কষ্টের অর্জিত চাকরির নিয়োগ আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তরুণের এই অসহায়ত্ব ও অনিশ্চয়তার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন তার প্রতিবেশী। কোনো প্রকার আর্থিক বিনিময় ছাড়াই ওই তরুণকে নিজের মালিকানাধীন জমির একটি অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করে দেন তিনি।
প্রতিবেশীর এই বিরল ও মহতী উদ্যোগে তরুণ ও তার পরিবারের চোখে নেমে আসে স্বস্তির জল। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে প্রশংসা ও আনন্দের বন্যা বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমান যুগে যখন জমিজমা নিয়ে ভাই-ভাইয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছায়, সেখানে একজন প্রতিবেশীর এমন উদারতা সমাজে মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জমি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন আর পুলিশের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশনে কোনো বাধা থাকছে না। তরুণটি শীঘ্রই তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।