

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কথাঃ
সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে মূল্য তালিকা না টাঙানো, ক্রয়-বিক্রয়ের মেমো না রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ও তদারকির ক্ষেত্র
অধিদপ্তরের একাধিক ভিজিলেন্স টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় দলগুলো বাজারে কয়েকটি প্রধান বিষয় পর্যবেক্ষণ করে:
১. দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো হয়েছে কি না,
২. কেনাবেচার সঠিক ক্যাশমেমো বা ভাউচার প্রদান করা হচ্ছে কি না,
৩. কোনো অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে কি না, এবং
৪. নিরাপত্তার নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না।
ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা ও ভোক্তাদের পরামর্শ
অভিযান চলাকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়, অযৌক্তিক মজুত বা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সিলিন্ডার কেনার সময় অবশ্যই ওজন ও সিল পরীক্ষা করে নেওয়া, নির্ধারিত মূল্যতালিকা দেখে মেমো বা রশিদ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে বা দামে কোনো ধরনের অনিয়ম নজরে এলে ভোক্তাদের সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ও নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।