

বিশেষ প্রতিবেদক | সময়ের কথা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি খবর বেশ জোরেশোরে ছড়িয়ে পড়েছে—যেসব নাগরিকের ই-টিন (e-TIN) রয়েছে, কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, তাদের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এমন খবরে সাধারণ করদাতা ও ই-টিনধারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি।
তবে বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে এবং সঠিক তথ্য জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন দেশের লাখো করদাতা। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আসলে কী নিয়ম রয়েছে এবং সবার ক্ষেত্রে এই জরিমানা প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে সবার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের কথা প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টি সবসময় একভাবে কার্যকর হয় না। আইনি বিধান অনুযায়ী, কাদের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা প্রযোজ্য হবে এবং কোন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ছাড় বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। যাদের ই-টিন রয়েছে কিন্তু আয়সীমা বা অন্যান্য শর্তের কারণে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কিংবা যাদের ক্ষেত্রে আইন ভিন্নভাবে প্রযোজ্য, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তাই সঠিক সময়ে রিটার্ন দাখিল করে যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা জরিমানা এড়াতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।