

অনলাইন ডেস্ক (সময়ের কথা)
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাপ্ত নথিতে মোট ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা দুদকের চলমান অনুসন্ধানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচার: চার দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনার অভিযোগ।
নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য: ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক নিয়োগ, ৩৬ জন ডিসি পদায়ন ও বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ পদে নিয়োগে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ।
প্রকল্প ও টেন্ডার অনিয়ম: উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে ১০% থেকে ৩০% কমিশন গ্রহণ এবং প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়ানোর অভিযোগ।
স্বজনদের সিন্ডিকেট: আসিফ মাহমুদের বাবা, সাবেক এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ।
বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের হিসাব
দেশ
অনুমিত পাচারের পরিমাণ অভিযোগের বিবরণ দুবাই
পদায়ন ও প্রশাসকদের নিয়োগ: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে জেলাভেদে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ।
শীর্ষ পদে নিয়োগ ঘুষ: ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি: শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১,২০০ কোটি টাকা বাড়ানো, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুরাদনগরে ৪৫৩ কোটি টাকার গ্রামীণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘনিষ্ঠ ও স্বজনদের ভূমিকা দুদকে দাখিলকৃত আবেদনে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার নাম উঠে এসেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ লেনদেনের মধ্যস্থতা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আসিফ মাহমুদের প্রতিক্রিয়া এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে ‘পলিটিক্যাল সার্কাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে দুদককে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
দুদক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো বর্তমানে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুসন্ধানের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।