

সময়ের কথা ডেস্ক:
দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষার পর পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমান মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে এ মজুরি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের দাবি উঠে আসছিল। দীর্ঘ তিন বছর পর এই দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজের মান ও জীবনযাত্রার ব্যয়ভার সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এই বেতন ও মজুরি কাঠামোর সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে।
মজুরি সমন্বয়ের মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকদের কাজের উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মতে, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে মজুরি সমন্বয় করা হলে তা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও সহজ করবে।
অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে বিশ্ববাজারের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই মজুরি সমন্বয়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক খাতের অবদান অপরিসীম। দেশের লাখ লাখ শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান টিকে রয়েছে এই খাতের ওপর। তিন বছর পর মজুরি সমন্বয়ের এই পদক্ষেপের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে সন্তুষ্টি আসবে, যা সামগ্রিক শ্রম অসন্তোষ কমাবে এবং শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সংবাদ বিশ্লেষণ ও দেশের সবশেষ খবর জানতে চোখ রাখুন Somoyerkatha.com-এ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।