

অনলাইন ডেস্ক, সময়ের কথা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেটা তাদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ফেসবুকে আর সরাসরি ‘পেইজ লাইক’ (Page Like) বাড়ানোর বিজ্ঞাপন তৈরি করা যাবে না। ডিজিটাল বিপণন ও বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা আরও ফলাফলমুখী (Outcome-driven) করার লক্ষ্যেই মেটা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিজিটাল বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপের ফলে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসার প্রচার ও মার্কেটিং কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
এতদিন ধরে ছোট-বড় উদ্যোক্তা, ব্র্যান্ড এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা খুব সহজেই ‘Page Likes’ অবজেক্টিভ ব্যবহার করে অ্যাড ক্যাম্পেইন চালু করতেন। এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে পেইজের ফলোয়ার বা লাইক সংখ্যা বাড়ানো যেত।
তবে মেটার বিজ্ঞাপনী কাঠামো বা Outcome-driven Ad Experiences (ODAX) আপডেটের পর দেখা গেছে, শুধু লাইকের সংখ্যা বাড়লেই কোনো ব্যবসায়ের প্রকৃত বিক্রি বা এনগেজমেন্ট বাড়ে না। ভুয়া আইডি কিংবা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লাইক বাড়ার ঝুঁকিও এতে থেকে যায়। তাই শুধু মেকি সংখ্যা না বাড়িয়ে ব্যবসায়ের আসল গ্রাহক ও এনগেজমেন্ট নিশ্চিত করতেই এই ফিচারটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যাঁরা এতদিন লাইক বাড়ানোর বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করতেন, তাঁদের জন্য মেটা বিকল্প কিছু পথ খোলা রেখেছে:
এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন (Engagement Campaign): এখন থেকে পেইজে ফলোয়ার বাড়াতে চাইলে ‘Engagement’ অবজেক্টিভ বেছে নিতে হবে। সেখানে কনভার্সন লোকেশন হিসেবে ‘Facebook Page’ অপশন নির্বাচন করে পেইজের প্রচার চালানো যাবে।
মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি: শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত মানসম্মত ভিডিও, ছবি ও পোস্টের মাধ্যমে অর্গানিক বা প্রাকৃতিক উপায়ে অনুসারী বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
টার্গেটেড ট্রাফিক ও লিড জেনারেশন: নতুন ব্যবসায়ীদের এখন লাইক জমানোর চেয়ে সরাসরি বিক্রি (Sales), মেসেজ (Messages) বা ওয়েবসাইট ট্রাফিকের বিজ্ঞাপনে বাজেট বরাদ্দ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সাময়িকভাবে অনেক ছোট উদ্যোক্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কারণ এখন ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র প্রদর্শনমূলক সংখ্যার পেছনে না ছুটে সঠিক সম্ভাব্য ক্রেতা বা টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে মনোযোগ দেবেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।