

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এক নতুন দিগন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশিষ্ট কর্মকর্তা শাহে আলম।
বুধবার সচিবালয়ে এসংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে শাহে আলম এই বৃহৎ বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে আরও টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে সরকার এই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ৩৭০ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।
শাহে আলম বলেন, “এই বরাদ্দের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডকে আরও শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই উদ্যোগ দেশের বিদ্যুৎ খাতের বৈচিত্র্যকরণের এক বড় ধাপ।
এই বরাদ্দের ফলে interested নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলি একটি বিশেষ সুবিধাজনক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রকল্পটির অধীনে সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ কমাতে বিশেষ ভর্তুকি ও ঋণের সুবিধা প্রদান করা হবে। এটি শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে না, বরং ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এটি শুধু বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে, এবং এই ৩৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।