

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমন ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ক্যাম্পের নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে দুটি নতুন সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প কেন্দ্রিক সশস্ত্র দলগুলোর নৈরাজ্য, মাদক পাচার, অপহরণ ও সহিংসতা বন্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক ও সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে একের পর এক গোলাগুলি, হত্যা এবং আরসা ও আরএসও-র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পুনর্দখলে আনতেই এই যৌথ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও যৌথ অভিযান
বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) এবং সাধারণ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তবে ক্যাম্পের সীমানা সংলগ্ন দুর্গম পাহাড় ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে অপরাধীরা সহজেই আত্মগোপন করে। নতুন করে স্থাপিত হতে যাওয়া দুটি সেনা ক্যাম্পের মাধ্যমে ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (Rapid Response Unit) হিসেবে কাজ করা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো অনেক সহজ হবে।
স্থানীয়দের স্বস্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন প্রতিনিধিরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, এই দুটি সেনা ক্যাম্প চালু হলে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) চোরাচালান রোধ করার পাশাপাশি ক্যাম্পসংলগ্ন সীমান্ত পাহারা ও ক্যাম্পের মূল প্রবেশপথগুলোতে কড়া তল্লাশি চালানো সম্ভব হবে। একই সাথে স্থানীয় জনগণ এবং আশ্রয়শিবিরে থাকা সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।