

নিউজ ডেস্ক, সময়ের কথা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু হাতে লেখা চিঠিতে উঠে এসেছে গভীর মানসিক কষ্ট, বিশ্বাসভঙ্গ, আক্ষেপ ও সম্পর্কের নানা জটিলতা। চিঠির পাতায় পাতায় ভালোবাসা এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার বেদনাময় অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাড ও সাদা কাগজে লাল-কালো কালিতে লেখা এসব চিঠিতে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা ও হার-জিতের এক মর্মান্তিক হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা একটি চিঠিতে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার আক্ষেপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে—
“আমি হেরেছি… তুমি জিতেছো… কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষে দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি—দেখে নাও, এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।”
অন্য একটি পৃষ্ঠায় সম্পর্কের চরম বিশ্বাসভঙ্গের বর্ণনা দিয়ে লেখা হয়েছে—
“আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে? যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি!”
ভালোবাসা ও অধিকারের টানাপোড়েন উল্লেখ করে অন্য একটি পাতায় লেখা হয়—
“সে ছিল অন্য নারীর স্বামী-কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ… ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়… ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”
নিজেকে প্রতারণার শিকার দাবি করে অপর একটি লেখায় উল্লেখ করা হয়, তাকে স্রেফ ব্যবহারের উপকরণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। চিঠিতে লেখা রয়েছে—
“সে বলেছিল-আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো-আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি!”
একই সাথে লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় নিজের আত্মসম্মানবোধের বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে—
“শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই…!”
উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোর পাশাপাশি ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ সংবলিত একটি পাতা পাওয়া গেছে, যেখানে ঘুমানোর আগে পালনীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। পুলিশ উদ্ধারকৃত চিঠিগুলোর সত্যতা ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।