

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডিমলা (নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিজ্ঞ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপের চূড়ান্ত তালিকায় নাম পাঠানো হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ও ক্যাম্পাস নিষিদ্ধ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদের। জোয়াদ জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে নৃশংস নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি। জানা গেছে, ডিলার নিয়োগের সুপারিশকারী উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন জোয়াদের বাবা অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন। তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ছেলের মালিকানাধীন ‘মাবরুক বিজনেস সেন্টার’-এর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন। একই তালিকায় স্থান পেয়েছে আবু তাহের সরকার নামে আরেক চাল ব্যবসায়ীর নাম, যিনি সম্পর্কে অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেনের আপন ভাগিনা। একই পরিবারের ছেলে ও ভাগিনার নাম তালিকায় রাখায় বাদ পড়েছেন স্থানীয় প্রকৃত ক্ষুদ্র প্রার্থীরা।
গয়াবাড়ী ইউনিয়ন থেকে সার ডিলারশিপের জন্য মোট ১০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীরা হলেন-মেসার্স সেকেন্দার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেকেন্দার আলী, মাবরুক বিজনেস সেন্টারের মো. মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ, মো. মিজানুর রহমান, মো. রবিউল ইসলাম, শ্রী হরিদাস চন্দ্র রায়, মো. দুলাল হোসেন, মো. সোহাগ মিয়া, মো. আবু তাহের সরকার, মো. আব্দুল গাফফার ও মো. লুৎফর রহমান। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নাম বাতিলের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, “প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে জেলা তালিকায় নাম পাঠানো হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা বা ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেলে মনিটরিং কমিটি তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবে এবং ওই নাম বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।