

ইসলাম ডেস্ক, সময়ের কথাঃ সৃষ্টিজগতের মালিক মহান আল্লাহ তাআলার অগণিত সৃষ্টির মধ্যে ফেরেশতারা অন্যতম। তাদের প্রধান কাজই হলো সর্বদা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ ও ইবাদতে লিপ্ত থাকা। ইসলামিক রেওয়ায়েত ও বিভিন্ন হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, মহাবিশ্বে এমন একটি পবিত্র স্থান রয়েছে যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে ইবাদত-বন্দেগি ও তাওয়াফ করেন। পবিত্র ও মহিমান্বিত এই স্থানটির নাম ‘বাইতুল মামুর’ (Baitul Ma’mur)।
মিরাজের রাতে বাইতুল মামুরের দর্শন
পবিত্র হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিক মিরাজ গমনের রাতে সপ্তম আসমানে এই পবিত্র ‘বাইতুল মামুর’ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি দেখেন, জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) এই ঘরের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে বসে আছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন জিবরাইল (আ.)-এর কাছে এই ঘরের পরিচয় জানতে চান, তখন জিবরাইল (আ.) জানান- এটিই আসমানের ‘বাইতুল মামুর’।
একবার সুযোগ পাওয়া ফেরেশতা আর কখনো ফেরেন না
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিদিন এই পবিত্র ঘরে ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো-যেসব ফেরেশতা একদিন এই ঘরে ইবাদত করার সুযোগ পান, তারা কিয়ামত পর্যন্ত আর দ্বিতীয়বার এখানে আসার সুযোগ পান না। কারণ আল্লাহর সৃষ্টি ফেরেশতার সংখ্যা এতই অগণিত যে, প্রতিদিন নতুন ৭০ হাজার ফেরেশতা এসে এতে ইবাদত সম্পন্ন করেন।
পৃথিবীর কাবাঘরের সাথে অলৌকিক সংযোগ
মুফাসসিরিন ও তাফসিরবিদদের মতে, সপ্তম আসমানে অবস্থিত এই ‘বাইতুল মামুর’ হলো আসমানবাসীদের কাবাঘর। পৃথিবীর বুকে আমাদের পবিত্র ‘কাবা শরীফ’ ঠিক যে অবস্থানে অবস্থিত, বাইতুল মামুরও সপ্তম আসমানে ঠিক তার সোজাসুজি ওপরের অংশে অবস্থিত। বলা হয়ে থাকে, এটি যদি আসমান থেকে নিচে নেমে আসত, তবে তা সরাসরি পৃথিবীর কাবাঘরের ওপরই এসে পড়ত। যেভাবে পৃথিবীর মুসলিমরা কাবাঘর তাওয়াফ করেন, ঠিক তেমনিভাবে ফেরেশতারাও বাইতুল মামুর তাওয়াফ করেন।
কোরআন ও হাদিসে বাইতুল মামুর
পবিত্র কোরআনের সূরা আত-তূরের ৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ‘বাইতুল মামুর’-এর কসম খেয়েছেন। যেকোনো বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রকাশ করতেই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তার কসম উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে স্থানটির অতিউচ্চ মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমসহ হাদিসের প্রধান প্রধান গ্রন্থে বাইতুল মামুরের এই বিবরণ বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, বাইতুল মামুরের এই ইতিহাস মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, সৃষ্টির বিশালতা এবং ফেরেশতাদের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের এক অনন্য নিদর্শন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।