শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগরে মাদার নদীতে অবস্থিত বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে মানববন্ধন বিশ্বকাপ ফাইনাল আবার আয়োজন এর দাবি আর্জেন্টাইনদের বিএমএসএস’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হলেন দৈনিক দেশ বার্তা’র ব্যুরো চীফ সাত মাসের শিশু বুকে নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ২১ বছরের টুম্পা দাশ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন: সহকারী সম্পাদক হলেন তৌকির উদ্দীন আনিছ বাঙ্গালহালিয়াতে বন্যা প্লাবিত এলাকার পানি নিস্কাশনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সেনাবাহিনী কাপ্তাই জোন। সরকার আসে এবং যায় কিন্তু? বাঙ্গালহালিয়া ডাকবাংলা মধ্যম পড়া বাসির জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ যেন শেষ নেই, একটু বৃষ্টি হলেই বসতঘরে হাঁটু সমান পানি। আনোয়ারার বৈরাগে পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন অবহেলা! ফিউজ বাদ দিয়ে তার পেঁচিয়ে জুয়াখেলা, একদিন ধরে তীব্র পানি সংকটে হাজারো মানুষ মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে খাবারে বিষ? টিআইবি-এর শিউরে ওঠার মতো রিপোর্ট বিশ্বকাপে রাতজাগা দর্শকদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ সুবিধা: কী থাকছে এই ঘোষণায়?

কৃষক দল নেতার ক্ষমতায় হালিশহরে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে
কৃষক দল নেতার ক্ষমতায় হালিশহরে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার জে-ব্লক এলাকার বাড়ি নম্বর-৮ (শান্তিলজ)-এর মালিক এস. এম. সহিদ উল্লাহ পাবেল তার বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা, পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট এবং একের পর এক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম একাডেমি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাকে এবং তার পরিবারকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেন, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। বাড়ির মালিক হিসেবে নিজ বাড়িতেই তারা যেন বন্দি জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত হুমকি, ভয়ভীতি ও মামলার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

লিখিত বক্তব্যে সহিদ উল্লাহ পাবেল বলেন, তার বাসার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ কাউছার এবং ইসতিয়াক রহমান মনা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মনা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ভাড়া পরিশোধ না করে বাসায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাউছার বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া তাদের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভাড়া বকেয়া রাখা, বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি দেখানো, বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট কাউছার ও মনা তাদের সহযোগীদের নিয়ে তার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় তারা জোরপূর্বক তিনটি স্বাক্ষরিত চেক নিয়ে যায়। পরে সেই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব মামলা পরিকল্পিতভাবে সাজানো এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে অপপ্রচার চালানো হয়। এরপর তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ১০ আগস্ট তার অনুপস্থিতির সুযোগে বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি হালিশহর আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের নির্দেশনা দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।

 

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে পানির সংযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় কাউছার, তার স্ত্রী ও শ্যালক মিলে তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার দুই শিশুসন্তানও আহত হয়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। প্রথমদিকে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করা হলেও পরে মামলা গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক লেনদেন সম্পর্কেও নানা তথ্য তুলে ধরা হয়। সহিদ উল্লাহ পাবেল দাবি করেন, কাউছার তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে তিনি তার কাছ থেকে মোট ২ লাখ ১ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ এসব অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন প্রমাণ ও নথি তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া সালিশ বৈঠকে লিখিতভাবে হালিশহর থানায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ডিবিতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সন্ত্রাসীদের ২ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। এসব অর্থ কেন এবং কার স্বার্থে দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে সহিদ উল্লাহ পাবেল বলেন, “আমার বয়স ৫৩ বছর। জীবনে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলার আসামি হইনি। কারাগারে যাইনি। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। অথচ আজ আমাকে আমার নিজের বাড়ি রক্ষার জন্য সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, শুধু আমার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে।”

তিনি আরও বলেন, তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে হালিশহর জে-ব্লক সমাজকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সবুজ মেলা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তার পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে
উপস্থিত ছিলেন এস এম শহীদুল্লাহ,
আয়েশা আক্তার পপি,হাসনা আক্তার,রাশেদা আক্তার, আব্দুর রহমান লিটন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews