
মোঃ তৌকির উদ্দীন আনিছ | সময়ের কথা
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন সুমধুর আজানের ধ্বনিতে এলাকার মুসল্লিদের নামাজের দিকে আহ্বান করে আসছেন তিনি। তাঁর এই সুদীর্ঘ, একনিষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ খেদমতের অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পবিত্র ওমরাহ করিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
সম্মানিত এই মুয়াজ্জিনের নাম হাফেজ শহিদুল ইসলাম। তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ৩৮নং ওয়ার্ড (বন্দর) এলাকার ঐতিহ্যবাহী হামজার দিঘির পাড় জামে মসজিদে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা যায়, মসজিদের প্রধান খতিব হাফেজ কারী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের আল কাদেরী সর্বপ্রথম এই মহতী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। মুয়াজ্জিন হাফেজ শহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ খেদমত এবং নিঃস্বার্থ জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে খতিব সাহেব তাঁকে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরীফ এবং রাসুল (সাঃ)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর কাছে আহ্বান জানান।
খতিবের সেই আবেগঘন প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং সাধারণ মুসল্লিরা। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সার্বিক সহযোগিতায় ওমরাহ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয় এবং তাঁকে ওমরাহ পালনে পাঠানো হয়।
এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বাদশাহ, কমিটির সদস্য জনাব মুহাম্মদ আলী, জনাব মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, জনাব মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় মুসল্লিগণ।
এ বিষয়ে মসজিদের প্রধান খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল কাদের আল কাদেরী বলেন, “মুয়াজ্জিন সাহেব দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে এই মসজিদে খেদমত করে আসছেন। এলাকাবাসীও তাঁর এই ত্যাগের কথা স্বীকার করেন। তাই আমরা তাঁকে পবিত্র ওমরাহ করানোর প্রস্তাব দিলে সবাই সানন্দে তা গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ে সার্বিক ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয় ছিল।
দীর্ঘদিনের সেবার এমন অনন্য স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান সমাজে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। পবিত্র ওমরাহ পালন করে এসে মুয়াজ্জিন হাফেজ শহিদুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি মসজিদ কমিটি, খতিব এবং এলাকাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সকলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করেছেন।