

দেশের ফল বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য ও সিন্ডিকেটের অনিয়ন্ত্রিত মনোপলি। শুল্কায়ন ও আমদানি নথি অনুযায়ী যে মাল্টা প্রতি কেজি দেশে আনতে খরচ পড়ছে মাত্র ৭৮ টাকা, তা হাতবদল হয়ে সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে দাম বাড়ছে সাড়ে ৬ গুণেরও বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের এই অস্বাভাবিক মুনাফা লোটার চিত্র উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানি সংক্রান্ত তথ্যে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত প্রতি কেজি মাল্টার সিঅ্যান্ডএফ (C&F) মূল্য, জাহাজ ভাড়া এবং প্রাথমিক শুল্কসহ আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ৭৮ টাকার কাছাকাছি। স্থানীয় পরিবহন খরচ, আড়তদারদের কমিশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত করলেও পাইকারি পর্যায়ে এর দাম ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
অথচ আড়ত ও পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছাতেই এই ফলটির দাম ঠেকছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজিতে। ফলে সাধারণ ক্রেতা বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পুষ্টিকর এই ফলটি কেনা এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকার কর্মীদের মতে, ফল আমদানিতে কতিপয় অসাধু ইম্পোর্টার ও আড়তদার মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই চড়া দাম হাঁকাচ্ছে। আমদানিকারকরা এলসি (LC) খোলা ও ডলার সংকটের অজুহাত দেখালেও বাস্তবে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের কোনো সংগতি নেই।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও পাইকারি ও আড়ত পর্যায়ে সঠিক তদারকি না থাকায় অসাধু চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।
ভোক্তারা দাবি করছেন, শুধুমাত্র খুচরা দোকানে অভিযান না চালিয়ে আমদানিকারক ও পাইকারি আড়তগুলোতে কাস্টমসের এলসি মূল্য ধরে অভিযান চালালে এই বিশাল মূল্যের অসংগতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।