
ববি প্রতিনিধি:
জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর বরিশাল নগরীর বিভিন্ন রুটে অটোরিকশার ভাড়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, শিক্ষার্থীদের নিতে অনীহা এবং ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে অনেক অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রূপাতলী থেকে কাটালতলা পর্যন্ত মাত্র কয়েক মিনিটের পথের ভাড়া আগে ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে অটোরিকশায় উঠলেই ১০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এছাড়া টোল ফ্রি ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে অনেক অটোরিকশা চালক শিক্ষার্থীদের বহন করতে চান না। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী রাসেল বলেন, গত ২৭ জুন রাত প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে আমি সহ ভার্সিটির ৪/৫ জন প্রায় ৩০–৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক অটোরিকশা চালক যেতে রাজি হননি। কেউ কেউ টোল ফ্রির পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ টাকা দাবি করেন। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা এই সমস্যার একটি দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চাই।
একই বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী মোস্তফা ওয়াসিফ সাদ বলেন, “আমি কাটালতলায় থাকি। রূপাতলী থেকে কাটালতলা মাত্র দুই মিনিটের হাঁটার পথ। প্রতিদিন টিউশন শেষে রাত ১০টা–১১টার দিকে বাসায় ফিরি। আগে এই পথে ভাড়া ছিল ৫ টাকা, এখন অটোরিকশা চালকেরা ১০ টাকার কমে যেতে রাজি হন না। তারা বলেন, ‘মামা, উঠলেই ১০ টাকা।’ বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বরিশালের অটোরিকশা চালক ও তাদের সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ যাত্রীরা অনেকটা জিম্মি। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ দিন নিয়ন্ত্রণহীন ভাড়া আদায় করা হয়। আমরা বরিশাল সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে কয়েকজন অটোরিকশা চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক বলেন,”মামা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-তেলের দাম বেড়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়িয়েছি। সরকার যদি জ্বালানি ও গ্যাসের দাম কমায়, তাহলে আমরাও ভাড়া কম নেব।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর অটোরিকশা ভাড়া বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুতই বরিশাল সিটি করপোরেশন এর মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সমাধান এর আশ্বাস প্রদান করেন । তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।