
মোঃ তৌকির উদ্দীন আনিছ-(সময়ের কথা,চট্টগ্রাম)
টাকা-পয়সা কিংবা জাগতিক স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে আত্মিক অভাব পূরণ হয় না-সেই গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি থেকে আবারও নিয়মিত ইমামতির মতো মহান দায়িত্বে ফিরেছেন চাটগাঁর বিশিষ্ট আলেম, গাউছিয়া মুজাদ্দেদিয়া সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা রবিউল করিম। সম্প্রতি তিনি নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ নগর গাউছিয়া জামে মসজিদ’-এ পুনরায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের খেদমত গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি ইমামতিতে ফিরে আসার পেছনের অনুভূতি ও অন্তর্দৃষ্টির কথা শেয়ার করেন।
মাদ্রাসায় অধিক সময় দেওয়া এবং দূর-দূরান্তের বিভিন্ন দ্বীনি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি প্রায় দুই মাস ইমামতির নিয়মিত দায়িত্ব থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। এ সময়ে বাহ্যিকভাবে ভালো আয়-রোজগার ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ হলেও রাতের নীরবতায় একধরনের আত্মিক শূন্যতা তাঁকে গ্রাস করত।
“পরে বুঝলাম, অভাবটা টাকা-পয়সার নয়, স্বাধীনতারও নয়-অভাবটা ছিল প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ার। আগে ভাবতাম ইমামতি মানে কিছুটা বন্দি জীবন, কিন্তু এখন মনে হয় আল্লাহর ঘরের সঙ্গে বাঁধা থাকাটাই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। – মাওলানা মোঃ রবিউল করিম আল কাদেরী।
জাগতিক অর্জনের চেয়ে পরকালের সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
দায়িত্বের সুফল: ইমামতি হয়তো এক ধরনের দায়িত্ববদ্ধ জীবন; কিন্তু এই দায়িত্বের বিনিময়ে ব্যাংকে টাকা কম জমলেও প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত আমলনামার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হচ্ছে।
আসল আমানত: দুনিয়ার ব্যাংকে কত জমলো তা একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আমলনামার ব্যালেন্সই আখিরাতে সঙ্গে যাবে।
ঐতিহ্যবাহী শহীদ নগর গাউছিয়া জামে মসজিদে পুনরায় ইমামতির খেদমত গ্রহণকে তিনি কেবল একটি চাকরি বা দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন না। বরং নিজের সালাত কায়েম রাখা, আল্লাহর ঘরের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা এবং সাধারণ মুসল্লীদের খেদমত করার এক পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
মাওলানা রবিউল করিমের এই আত্মোপলব্ধিমূলক বার্তাটি স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে।