

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দাফন করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নিহত অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ড. নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতি। অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
শোকের এই আবহের মাঝেই খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ও অবরোধের জেরে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।