

আবহাওয়া পরিবর্তন ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। একের পর এক পরিবারে হানা দিচ্ছে এই মৌসুমী জ্বর, আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ বয়সের সদস্যরাও। জ্বর ও তীব্র শারীরিক উপসর্গ দেখা দেওয়ায় প্রতিটি পরিবারেই তৈরি হচ্ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
এমনই এক ভুক্তভোগী পরিবার জহিরুল ইসলামের। তিনি জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি নিজে প্রথম জ্বরে আক্রান্ত হন। ৩-৪ দিন ভোগার পর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যেতে না যেতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁর দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে হুমায়রা। এর ঠিক দুদিনের মাথায় ক্রমান্বয়ে আক্রান্ত হন তাঁর স্ত্রী এবং মা। অর্থাৎ, বর্তমানে পুরো ঘরের প্রায় সব সদস্যই জ্বরে কাবু।
আক্রান্তদের শারীরিক উপসর্গ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোগীদের প্রায় সবার মধ্যেই তীব্র মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি, বমি ভাব, গলা ব্যথা, চোখ লাল হওয়া এবং পেটে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। অসুস্থতার কারণে খাবার গ্রহণে তীব্র অরুচি তৈরি হওয়ায় রোগীরা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবারই রক্তের এনএস-১ (NS1) বা অন্যান্য পরীক্ষা করাচ্ছেন। তবে জহিরুল ইসলামের পরিবারের মতো অনেকেরই ডেঙ্গু টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে। তা সত্ত্বেও রোগীদের শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নামছে না। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের জ্বরের ওষুধ সেবন করানো হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত মৌসুমী ভাইরাল ফিভার বা ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব। ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ এলেও যেকোনো জ্বরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ না খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।