
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে বিশ্ব মানচিত্র থেকে দেশটির অস্তিত্ব মুছে ফেলা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক নতুন রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন:
”ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা স্বার্থে আঘাত হানে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমনটা হলে পৃথিবীতে ইরানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আকস্মিক নয়। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:
পরমাণু চুক্তি নিয়ে বিরোধ:
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
প্রক্সি যুদ্ধ:
ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ।
আঞ্চলিক আধিপত্য:
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর (বিশেষ করে ইসরায়েল) নিরাপত্তার প্রশ্নে ওয়াশিংটন কোনো ছাড় দিতে নারাজ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তেহরানের পক্ষ থেকেও কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হুমকিকে ‘ফাঁকা বুলি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare)। তবে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।