
অনলাইন ডেস্ক, সময়ের কথা:
বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ যখন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক আশাব্যাঞ্জক তথ্য সামনে আনলেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। সাধারণ ময়লার ভাগাড় ও বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে এমন কিছু বিশেষ প্রজাতির ছত্রাক (Fungus) শনাক্ত করা হয়েছে, যা ক্ষতিকারক প্লাস্টিক পচাতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের মতে, শত শত বছর ধরে টিকে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করতে এই প্লাস্টিক-ভাঙা ছত্রাক ভবিষ্যতে পরিবেশ সুরক্ষায় বিপ্লব ঘটাতে পারে।
প্লাস্টিকের শক্তিশালী রাসায়নিক বন্ধন প্রাকৃতিক উপায়ে সহজে ভেঙে যায় না বলে এটি শত বছর ধরে অবিকৃত থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ময়লার ভাগাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে গিয়ে কিছু ছত্রাক নিজেদের জৈবিক প্রক্রিয়ায় বিশেষ রূপান্তর ঘটিয়েছে।
এসব ছত্রাক থেকে নির্গত এনজাইম প্লাস্টিকের কঠিন পলিমার শিকলকে রাসায়নিকভাবে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করে। ফলে প্রাকৃতিক নিয়মে পচন না ধরা প্লাস্টিকও এই অনুজীবের প্রভাবে তুলনামূলক দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে মিশতে শুরু করে।
প্লাস্টিক বর্জ্য কেবল স্থলভাগ নয়, নদী-নালা ও মহাসাগরের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। এমনকি মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করেছে। এমন এক সংকটাপন্ন সময়ে প্রাকৃতিক উপায়ে প্লাস্টিক বিনষ্টের এই আবিষ্কারকে বড় একটি সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকদের অভিমত, ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাস্টিক পোড়ানোর বদলে ছত্রাক থেকে নিঃসৃত জৈব এনজাইম ব্যবহার করা সম্ভব হলে তা হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী একটি সমাধান।
বর্তমানে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে এই ছত্রাকগুলোর কার্যকারিতা এবং পচনের সময়সীমা নিয়ে নিবিড় গবেষণা চলছে। বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত পানির বোতল (PET) এবং পলিথিন জাতীয় প্লাস্টিক কত দ্রুত ধ্বংস করা যায়, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্য হলো এই ছত্রাকগুলোর কার্যকারী এনজাইমগুলো পৃথক করে বড় পরিসরে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে ব্যবহার করা। গবেষণা চূড়ান্ত রূপ পেলে অদূর ভবিষ্যতে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।